রাজধানীর প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নির্জন সরদারকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা আবদুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান ওরফে রিয়াদসহ চারজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথি এ আদেশ দেন। কারাগারে পাঠানো অপর তিন আসামি হলেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. রিয়াদুল হাওলাদার, মো. আলিফ আহম্মেদ আশিক ও সায়েম শিকদার।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরমান আলী। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন এবং আগামী ১ মার্চ জামিন শুনানির দিন ধার্য করেন। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নির্জন সরদার বাদী হয়ে আবদুর রাজ্জাকসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে গুলশান থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ২২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নির্জন সরদারের সঙ্গে আসামি ও তাঁর বন্ধুদের পূর্বশত্রুতা ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির চতুর্থ তলার ৪১২ নম্বর কক্ষে আসামিদের সঙ্গে নির্জনের দেখা হয়। এ সময় আসামিরা নির্জনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস ও সমাবর্তনে অংশগ্রহণের বিষয়ে কথা বলেন।
বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. আনিসুর রহমানের সঙ্গে পরামর্শ করার এক পর্যায়ে আবদুর রাজ্জাকের নির্দেশে রিয়াদুল ও সায়েম চেয়ার দিয়ে নির্জনের পিঠে ও বুকে আঘাত করেন। পরে রাজ্জাক সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে নির্জনের মুখমণ্ডলে আঘাত করলে তার নাকের উপরিভাগ কেটে গুরুতর জখম হয়। এ ছাড়া তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়। পরে ভুক্তভোগীর বন্ধু ও শিক্ষকেরা এগিয়ে এলে আসামিরা তাদেরও নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। খবর পেয়ে গুলশান থানা–পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আসামিদের আটক করে।
এর আগে গত বছরের ২৬ জুলাই রাজধানীর গুলশানে সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদা দাবির ঘটনায় গ্রেফতার হয়ে আলোচনায় এসেছিলেন এই আবদুর রাজ্জাক।
আপনার মতামত লিখুন :